দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

তিন মাসেরও বেশি সময় পর পরিবারের কাছে ফিরেছে ১১ বছর বয়সী শিশু সিয়াম হোসেন মনি। নানা নাটকীয়তা ও ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ থানা পুলিশের সহায়তায় স্বজনদের কাছে ফিরেছে শিশুটি।
উদ্ধার হওয়া সিয়াম হোসেন মনি খুলনার খালিশপুর থানার মজগুন্নী গ্রামের নানার বাড়িতে থাকত।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কোরবানির ঈদের কিছুদিন পর খুলনার মজগুন্নী গ্রামে নানার বাড়ি থেকে ছেলেকে কৌশলে নিয়ে চট্টগ্রামে চলে যান তার বাবা জাহিদুল সরদার। সেখানে একটি ফার্নিচারের দোকানে শিশুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করা হয়। বাবার এমন আচরণ সহ্য করতে না পেরে প্রায় পাঁচ দিন আগে সেখান থেকে পালিয়ে যায় মনি।
পরে চট্টগ্রামের একটি রেলওয়ে স্টেশনে আশ্রয়হীন অবস্থায় ঘোরাঘুরি করতে দেখে রাজশাহীর এক ব্যক্তি শিশুটির প্রতি সহানুভূতিশীল হন। তার কাছ থেকে পুরো ঘটনা শুনে খুলনায় নানার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সঙ্গে নেন তিনি।
পথে শনিবার রাতে ট্রেনযোগে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছান তারা। এ সময় মধ্যরাতে শিশুসহ ওই ব্যক্তিকে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে দুজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে কামারখন্দ থানা পুলিশ ঘটনাটি তদন্তে নামে। শিশু মনি ও ওই ব্যক্তির বক্তব্য শোনার পর সত্যতা যাচাই করতে খুলনায় শিশুটির নানার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ। পরে নিশ্চিত হয়, ওই ব্যক্তি ছেলেধরা নন; বরং শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
এদিকে খবর পেয়ে রাতেই থানায় ছুটে আসেন শিশুটির স্বজনরা। নাতিকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নানি রেহানা খাতুন।
তিনি বলেন, মনির বাবা মাদকাসক্ত। তিনি গোপনে নাতিকে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। তিন মাস ধরে তারা পাগলের মতো শিশুটিকে খুঁজেছেন। নাতিকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেয়ে আনন্দের শেষ নেই।
কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসমত আলী জানান, প্রাথমিক তদন্তে শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে আসা ব্যক্তির কোনো অসৎ উদ্দেশ্য পাওয়া যায়নি। তিনি শিশুটিকে সহায়তা করতে এগিয়ে এসেছিলেন। নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে শিশুটিকে পরিবারের জিম্মায় তুলে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের কাছে শিশুটিকে নিরাপদে ফিরিয়ে দিতে পেরে পুলিশও আনন্দিত।
যে আই